ব্রেস্ট ক্যান্সার (স্তন ক্যান্সার) একটি সাধারণ ক্যান্সার যা নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, তবে পুরুষদেরও এটি হতে পারে। সচেতনতা ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগ থেকে মুক্ত থাকা বা এর প্রভাব কমানো সম্ভব। নিচে ব্রেস্ট ক্যান্সার সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হলো:
ব্রেস্ট ক্যান্সারের সচেতনতা:
1. বয়স এবং ঝুঁকি ফ্যাক্টর: বয়স বাড়ার সাথে সাথে ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এর বাইরে পারিবারিক ইতিহাস, জেনেটিক ফ্যাক্টর, হরমোনাল পরিবর্তন, এবং জীবনযাত্রা ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
2. নিয়মিত পরীক্ষা: ব্রেস্ট সেলফ-এক্সামিনেশন (নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা) এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ৪০ বছর বয়সের পর থেকে নারীদের নিয়মিত মেমোগ্রাফি করানো উচিত।
3. ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণ: স্তনের আকার পরিবর্তন, স্তনে পিণ্ড বা শক্তি অনুভূত হওয়া, স্তনের ত্বকে ফোলাভাব বা লালচে হওয়া, নিপল থেকে অস্বাভাবিক স্রাব ইত্যাদি লক্ষণগুলিকে গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে।
প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা:
1. প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়া: প্রাথমিক পর্যায়ে ব্রেস্ট ক্যান্সার ধরা পড়লে এর প্রতিকার সহজ হয় এবং চিকিৎসার সাফল্যের হার অনেক বেশি।
2. চিকিৎসার ধরন: কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপি, সার্জারি, হরমোন থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি সহ বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি ব্রেস্ট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। চিকিৎসার ধরন নির্ভর করে রোগীর ক্যান্সারের ধরন, অবস্থান এবং রোগের পর্যায়ের উপর।
3. সুস্থ জীবনযাপন: স্বাস্থ্যকর জীবনধারা যেমন নিয়মিত ব্যায়াম, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, ওজন নিয়ন্ত্রণ, মদ্যপান এড়িয়ে চলা ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ:
- স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: ফল, শাকসবজি, ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খাওয়া উচিত।
- শারীরিক কার্যকলাপ: নিয়মিত শরীরচর্চা করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে।
- মদ্যপান ও ধূমপান এড়িয়ে চলা: মদ্যপান ও ধূমপানের সাথে ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি রয়েছে।
- হরমোন থেরাপি সম্পর্কে সতর্ক থাকা: দীর্ঘমেয়াদি হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসা ও সচেতনতা বিষয়ে আলোচনা এবং সঠিক পরীক্ষা নিয়মিতভাবে করালে এর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
ব্রেস্ট ক্যান্সার সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করতে গেলে সচেতনতা, কারণ, লক্ষণ, নির্ণয়, প্রতিকার এবং প্রতিরোধ নিয়ে বিস্তারিত জানা প্রয়োজন। নিচে প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে আরো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
ব্রেস্ট ক্যান্সারের কারণ:
ব্রেস্ট ক্যান্সার সুনির্দিষ্ট কোনো একক কারণে হয় না। তবে কিছু ফ্যাক্টর রয়েছে, যা এ রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এগুলো হলো:
1. জেনেটিক ফ্যাক্টর:
- কিছু নির্দিষ্ট জেন মিউটেশন (BRCA1, BRCA2) ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পারিবারিক ইতিহাস থাকলে এই জেনগুলোর পরীক্ষা করা যেতে পারে।
2. হরমোনাল ফ্যাক্টর:
- দীর্ঘমেয়াদি হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (Hormone Replacement Therapy - HRT) বা অল্প বয়সে মাসিক শুরু এবং বিলম্বিত মেনোপজ ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
3.জীবনযাত্রা ও পরিবেশগত ফ্যাক্টর:
- মদ্যপান, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক অনুশীলনের অভাব এবং উচ্চ ফ্যাটযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে।
4. বয়স:
- বয়সের সাথে সাথে ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। ৫০ বছরের বেশি বয়সের নারীদের মধ্যে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
5. পারিবারিক ইতিহাস:
- পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে ব্রেস্ট ক্যান্সার থাকলে ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে মায়ের বা বোনের ক্যান্সার থাকলে এই ঝুঁকি বেশি হয়।
ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণ:
ব্রেস্ট ক্যান্সারের কিছু সাধারণ লক্ষণ রয়েছে, যা প্রাথমিক অবস্থায় সনাক্ত করা গেলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব। এই লক্ষণগুলো হলো:
1. স্তনে গুটি বা শক্ত পিণ্ড অনুভব হওয়া।
2. স্তনের আকার বা আকৃতির পরিবর্তন।
3. স্তনের ত্বকে লালচে বা ফোলাভাব দেখা দেওয়া।
4. নিপল থেকে রক্ত বা অস্বাভাবিক স্রাব হওয়া।
5. স্তনের ত্বকে গর্ত বা ঝিল্লির মতো তৈরি হওয়া।
6. বগলের নিচে বা গলার কাছে পিণ্ড অনুভব হওয়া।
স্টব্রে ক্যান্সারের নির্ণয়:
ব্রেস্ট ক্যান্সারের নির্ণয়ের জন্য কয়েকটি প্রধান পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। এগুলো হলো:
1. মেমোগ্রাফি (Mammogram):
- স্তনের অভ্যন্তরের ছবি তোলার মাধ্যমে পিণ্ড বা অস্বাভাবিক কোষ সনাক্ত করা হয়। ৪০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের নিয়মিত মেমোগ্রাফি করা উচিত।
2. আলট্রাসাউন্ড:
- মেমোগ্রাফিতে সন্দেহজনক কিছু ধরা পড়লে আলট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে পিণ্ডটি তরল নাকি শক্ত, তা সনাক্ত করা হয়।
3. বায়োপসি (Biopsy):
- একটি সুচের মাধ্যমে স্তনের পিণ্ড থেকে টিস্যু নিয়ে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়, যাতে ক্যান্সার কোষ রয়েছে কিনা তা জানা যায়।
4. MRI (Magnetic Resonance Imaging):
- স্তনের আরও বিস্তারিত ছবি পাওয়ার জন্য MRI স্ক্যান করা হয়। বিশেষ করে যখন মেমোগ্রাম এবং আলট্রাসাউন্ডে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না।
ব্রেস্ট ক্যান্সারের প্রতিকার:
ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসা নির্ভর করে রোগীর বয়স, ক্যান্সারের অবস্থান, আকার এবং স্তরের উপর। চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো হলো:
1. সার্জারি (Surgery):
- আক্রান্ত স্তনের পিণ্ড অপসারণ (ল্যুমপেক্টমি) বা পুরো স্তন অপসারণ (মাস্টেক্টমি) করা হতে পারে।
2. কেমোথেরাপি (Chemotherapy):
- ক্যান্সারের কোষ ধ্বংস করার জন্য শক্তিশালী ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। কেমোথেরাপির ফলে কোষ বিভাজন বন্ধ হয় এবং ক্যান্সার কোষ মারা যায়।
3. রেডিয়েশন থেরাপি (Radiation Therapy):
- ক্যান্সারের কোষ ধ্বংস করার জন্য উচ্চ শক্তির রশ্মি ব্যবহার করা হয়। সার্জারির পর বাকি থাকা ক্যান্সার কোষ মেরে ফেলার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।
4. হরমোন থেরাপি (Hormone Therapy):
- কিছু ব্রেস্ট ক্যান্সার হরমোনের উপর নির্ভর করে বৃদ্ধি পায়। হরমোন থেরাপি এসব ক্যান্সারের বৃদ্ধি বন্ধ করে দিতে পারে।
5. ইমিউনোথেরাপি (Immunotherapy):
- শরীরের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে কাজ করা হয়। এটি ক্যান্সার প্রতিরোধে একটি নতুন উদ্ভাবনী পদ্ধতি।
ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ:
ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিরোধমূলক কিছু পদক্ষেপ নিচে উল্লেখ করা হলো:
1. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস:
- বেশি করে শাকসবজি, ফলমূল, এবং আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত। ফ্যাট ও উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে।
2. নিয়মিত শরীরচর্চা:
- নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ যেমন হাঁটা, দৌড়ানো বা ব্যায়াম ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারে।
3. মদ্যপান ও ধূমপান এড়িয়ে চলা:
- মদ্যপান ও ধূমপানের সাথে ব্রেস্ট ক্যান্সারের সম্পর্ক রয়েছে। এগুলো এড়িয়ে চললে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে।
4. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা:
- অতিরিক্ত ওজন থাকা ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।
5. পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও মানসিক চাপ কমানো:
- মানসিক চাপ ও বিশ্রামের অভাব ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নিয়মিত বিশ্রাম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।
সংক্ষেপে, ব্রেস্ট ক্যান্সার থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হলে সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রেস্ট ক্যান্সার সম্পর্কে আরো গভীরে আলোচনা করলে এর সনাক্তকরণ, বিভিন্ন ধরণ, চিকিৎসা পদ্ধতি, ঝুঁকি হ্রাসের উপায়, এবং রোগীদের মানসিক ও শারীরিক পুনর্বাসনের দিকগুলোও বোঝা জরুরি। নিচে প্রতিটি বিষয়ের আরো বিশদ বিবরণ দেওয়া হলো:
ব্রেস্ট ক্যান্সারের বিভিন্ন ধরণ:
ব্রেস্ট ক্যান্সারের কিছু সাধারণ এবং কিছু বিরল ধরণ রয়েছে। প্রধান ধরণগুলো হলো:
1. ডাক্টাল কার্সিনোমা ইন সিটু (DCIS):
- এটি প্রাথমিক স্তরের ক্যান্সার যেখানে ক্যান্সার কোষগুলো দুধের নালিতে থাকে এবং অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়ে না। এ অবস্থায় যদি দ্রুত চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে এটি ইনভেসিভ ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে।
2. ইনভেসিভ ডাক্টাল কার্সিনোমা (IDC):
- এটি সবচেয়ে সাধারণ ধরণের ব্রেস্ট ক্যান্সার, যেখানে ক্যান্সার কোষ দুধের নালির বাইরের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে এবং লিম্ফ নোডস ও অন্যান্য অঙ্গেও পৌঁছাতে পারে।
3. ইনভেসিভ লোবুলার কার্সিনোমা (ILC):
- এটি স্তনের লোবিউল (যেখানে দুধ উৎপাদিত হয়) থেকে শুরু হয়ে অন্যান্য টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে। IDC এর তুলনায় এটি তুলনামূলক বিরল।
4. ইনফ্লেমেটরি ব্রেস্ট ক্যান্সার (IBC):
- এটি খুবই আক্রমণাত্মক একটি ধরণ, যেখানে স্তনের ত্বক লাল হয়ে যায় এবং ফোলাভাব দেখা দেয়। সাধারণ মেমোগ্রাফিতে এটি সহজে ধরা পড়ে না।
5. ট্রিপল-নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যান্সার (TNBC):
- এই ধরনের ক্যান্সার ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন বা HER2 প্রোটিনের উপর নির্ভর করে না, ফলে হরমোন বা টার্গেটেড থেরাপি কাজ করে না। এটি তুলনামূলকভাবে কঠিন এবং দ্রুত ছড়ায়।
6. HER2-পজিটিভ ব্রেস্ট ক্যান্সার:
- এই ধরনের ক্যান্সার HER2 প্রোটিনের কারণে বৃদ্ধি পায় এবং বিশেষভাবে টার্গেটেড থেরাপি প্রয়োগ করে চিকিৎসা করা হয়। এটি একটি আক্রমণাত্মক ধরনের ক্যান্সার।
নির্ণয়ের আধুনিক পদ্ধতি:
ব্রেস্ট ক্যান্সার নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বর্তমানে বেশ কিছু উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। নিম্নে এর উল্লেখযোগ্য কিছু পদ্ধতি উল্লেখ করা হলো:
1. থ্রিডি মেমোগ্রাফি (3D Mammography):
- এটি স্তনের একটি ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরি করে, যা থেকে স্তনের পিণ্ড বা অস্বাভাবিকতা নির্ণয় করা সহজ হয়। সাধারণ মেমোগ্রাফির তুলনায় এটি আরও বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে।
2. জেনেটিক পরীক্ষা (Genetic Testing):
- পরিবারের ইতিহাস থাকলে, BRCA1, BRCA2 এবং অন্যান্য ক্যান্সার-সম্পর্কিত জেন পরীক্ষা করা হয়। এই জেনগুলোর মিউটেশন থাকলে ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।
3. বায়োমার্কার টেস্টিং:
- ক্যান্সার কোষের বিশেষ প্রোটিন বা জেন পরিবর্তন নির্ণয়ের জন্য বায়োমার্কার পরীক্ষা করা হয়। যেমন: HER2 প্রোটিনের উপস্থিতি নির্ণয় করে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করা হয়।
চিকিৎসার আধুনিক পদ্ধতি:
ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসা পদ্ধতি অনেক উন্নত হয়েছে, এবং আধুনিক পদ্ধতিগুলো অনেক ক্ষেত্রে রোগীর জীবন মান উন্নত করতে সহায়তা করে। নিচে এসব পদ্ধতির ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:
1. টার্গেটেড থেরাপি (Targeted Therapy):
- এই থেরাপিতে ক্যান্সারের নির্দিষ্ট প্রোটিন বা জেন টার্গেট করে ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। যেমন, HER2-পজিটিভ ক্যান্সারের ক্ষেত্রে **Herceptin (Trastuzumab)** নামক ওষুধ প্রয়োগ করা হয় যা শুধুমাত্র HER2 প্রোটিনকে আক্রমণ করে।
2. ইমিউনোথেরাপি (Immunotherapy):
- এটি এমন একটি চিকিৎসা পদ্ধতি যা শরীরের নিজস্ব ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে। বিশেষ করে ট্রিপল-নেগেটিভ ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হতে পারে।
3. নিওঅ্যাডজুভেন্ট থেরাপি:
- এই থেরাপিতে সার্জারির আগে কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন দেওয়া হয়, যাতে ক্যান্সার পিণ্ড ছোট হয়ে যায় এবং সহজে অপসারণ করা যায়।
4. অ্যাডজুভেন্ট থেরাপি (Adjuvant Therapy):
- সার্জারির পর ক্যান্সারের পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধের জন্য কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন বা হরমোন থেরাপি ব্যবহার করা হয়।
ঝুঁকি হ্রাসের আধুনিক পদক্ষেপ:
ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাসের জন্য কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হলো:
1. প্রোফিল্যাক্টিক সার্জারি:
- যাদের পারিবারিক ইতিহাস বা BRCA1/BRCA2 জেন মিউটেশন রয়েছে, তারা প্রতিরোধমূলক স্তন অপসারণ (প্রোফিল্যাক্টিক মাসটেক্টমি) করতে পারেন। এ ধরনের অপারেশন ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।
2. হরমোন থেরাপি (Preventive Hormonal Therapy):
- কিছু নির্দিষ্ট হরমোন-ব্লকিং ওষুধ যেমন ট্যামক্সিফেন (Tamoxifen) এবং র্যালক্সিফেন (Raloxifene) ঝুঁকি হ্রাসে সহায়তা করে।
ব্রেস্ট ক্যান্সার রোগীদের পুনর্বাসন:
ব্রেস্ট ক্যান্সার রোগীদের পুনর্বাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যাতে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হতে পারেন:
1. ফিজিক্যাল থেরাপি:
- অপারেশনের পরে শরীরের কার্যক্ষমতা ফিরে পেতে ফিজিক্যাল থেরাপি করা হয়, যা হাত ও কাঁধের শক্তি এবং নড়াচড়া স্বাভাবিক করে।
2. মানসিক পুনর্বাসন:
- ক্যান্সারের চিকিৎসা প্রক্রিয়া এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোর কারণে অনেক রোগী মানসিক চাপ বা হতাশায় ভোগেন। সাইকোলজিকাল কাউন্সেলিং, সাপোর্ট গ্রুপ এবং পরিবারের সমর্থন রোগীদের মানসিক পুনর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
3. প্রস্থেটিক্স ও রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি:
- ব্রেস্ট অপসারণের পরে অনেকে কৃত্রিম স্তন (প্রস্থেটিক ব্রেস্ট) ব্যবহার করতে পারেন বা রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি করাতে পারেন, যাতে তাদের আস্থা ও মানসিক অবস্থা ভালো থাকে।
ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস:
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন এবং নিয়মিত শরীরচর্চা ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে।
এই বিশদ আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, ব্রেস্ট ক্যান্সার একটি জটিল রোগ হলেও, আধুনিক চিকিৎসা ও সচেতনতা এর প্রতিরোধ ও নিরাময়ে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
1. ব্রেস্ট ক্যান্সার সচেতনতা
2. স্তন ক্যান্সার লক্ষণ
3. ব্রেস্ট ক্যান্সারের কারণ
4. স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ
5. ব্রেস্ট ক্যান্সার নির্ণয়
6. মেমোগ্রাফি
7. কেমোথেরাপি
8. রেডিয়েশন থেরাপি
9. হরমোন থেরাপি
10. ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসা
11. ট্রিপল-নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যান্সার
12. ইনভেসিভ ডাক্টাল কার্সিনোমা
13. স্তন ক্যান্সার ঝুঁকি হ্রাস
14. ব্রেস্ট ক্যান্সার পুনর্বাসন
15. প্রোফিল্যাক্টিক মাসটেক্টমি
# বাংলা হ্যাশট্যাগস ব্রেস্ট ক্যান্সার সচেতনতার জন্য:
1. #ব্রেস্টক্যান্সার
2. #স্তনক্যান্সারসচেতনতা
3. #স্তনস্বাস্থ্য
4. #ক্যান্সারপ্রতিরোধ
5. #ব্রেস্টক্যান্সারচিকিৎসা
6. #মেমোগ্রাফি
7. #কেমোথেরাপি
8. #রেডিয়েশনথেরাপি
9. #হরমোনথেরাপি
10. #ট্রিপলনেগেটিভব্রেস্টক্যান্সার
11. #ক্যান্সারনির্ণয়
12. #স্তনক্যান্সারপ্রতিরোধ
13. #স্তনক্যান্সারলক্ষণ
14. #ক্যান্সারসচেতনতা
15. #প্রাথমিকপর্যায়ে_ক্যান্সার
16. #ব্রেস্টক্যান্সারপুনর্বাসন
17. #মহিলাদেরস্বাস্থ্য
18. #ব্রেস্টক্যান্সারগবেষণা
19. #ব্রেস্টক্যান্সারজীবনযুদ্ধ
20. #ক্যান্সারমুক্তজীবন
